কলকাতার মেট্রোপলিটন পার্টি অফিসে উত্তেজনা, তালা ঝুলিয়ে ‘দখল’-এর দাবি ঋতব্রত শিবিরের

কলকাতা: রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল তৃণমূলের মেট্রোপলিটন পার্টি অফিস। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির কলকাতার ওই দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে এবং ভবনের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অপর শিবিরের নেতারাও। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তারাই ‘আসল’ তৃণমূল এবং মেট্রোপলিটনের এই কার্যালয় তাদেরই সাংগঠনিক অফিস। শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান জানান, ভবনের মালিকের সঙ্গে আলোচনা করেই তাঁরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এই কার্যালয়ের সঙ্গে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এই ঘটনাকে ‘দখলদারি’ বলে অভিযোগ করেছে। বিধায়ক কুণাল ঘোষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানান, ভবনটি নিয়ে দলের চুক্তি এখনও বহাল রয়েছে এবং বিষয়টি তিনি দলীয় নেতৃত্বকে জানাবেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের মদতেই এই ঘটনা ঘটেছে। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তালা ভেঙে কারও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে বৈধভাবে তালা খুলে প্রবেশে তাদের আপত্তি নেই।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ এর আগেই দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেছে ঋতব্রত শিবির। দলীয় নাম, প্রতীক, তহবিল ও সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন উভয় শিবিরের কাছে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে জবাব চেয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, মেট্রোপলিটনের এই কার্যালয়ে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও কাটআউট রয়েছে। ঋতব্রত শিবির সেগুলিতে কোনও পরিবর্তন করেনি। বরং তাদের বক্তব্য, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হিসেবে দেখতে চান।

সম্প্রতি নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের ঘোষণা এবং তৃণমূলের নেতৃত্ব নিয়ে দুই শিবিরের বিরোধ আরও প্রকাশ্যে এসেছে। তারই মধ্যে দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে এই নতুন সংঘাত রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

এদিকে কার্যালয়টির মালিক মনোতোষ (মন্টু) সাহার সঙ্গে ভবন ব্যবহারের বিষয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। ভবনের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতেই কার্যালয়ে প্রবেশ করা হয়েছে বলে দাবি ঋতব্রত শিবিরের।

রাজ্যের রাজনীতিতে তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ, দলীয় প্রতীক ও সম্পদের অধিকার নিয়ে যে সংঘাত চলছে, মেট্রোপলিটন পার্টি অফিসকে কেন্দ্র করে শুক্রবারের এই ঘটনাকে সেই বিরোধেরই নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং দুই পক্ষের রাজনৈতিক অবস্থান পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

WhatsApp Join জয়েন করুন