অভিষেকের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ বড় ধাক্কায়! ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা জাহাঙ্গীর খানের

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বড় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান ওরফে পুষ্পার মন্তব্যকে ঘিরে। আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। আর তার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেই সাংবাদিক সম্মেলন করে বড় ঘোষণা করেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, “মানুষের স্বার্থে আমি নির্বাচন থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে দাঁড়াচ্ছি।” পাশাপাশি তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও করেন। তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র ফলতা কেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কারণ ডায়মন্ড হারবার এবং তার আশেপাশের অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক মডেল নিয়ে বারবার প্রচার করেছে তৃণমূল শিবির। সেই জায়গাতেই ভোটের ঠিক আগে দলের প্রার্থীর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপি শিবির ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের সমর্থন দ্রুত বদলাচ্ছে এবং ফলতার ঘটনা সেই বাস্তব ছবিকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরেও এই ঘটনাকে ঘিরে চাপা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। কারণ ভোটের এত কাছাকাছি সময়ে প্রার্থীর এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তরফে জাহাঙ্গীর খানের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক নথি বা ঘোষণা সামনে আসেনি। ফলে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়ছে।

এখন দেখার, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে এই ঘটনার কতটা প্রভাব পড়ে এবং আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে এর কী বার্তা যায়।

WhatsApp Join জয়েন করুন