কলকাতা: বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে ফের রাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন AJUP-র একমাত্র বিধায়ক হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি তাঁর একটি বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। সেই বক্তব্যে তিনি দাবি করেছিলেন, প্রয়োজনে “মুসলিমদের মাঠে নামানো” হবে। এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং শাসক-বিরোধী উভয় শিবির থেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, কোনওভাবেই উসকানিমূলক বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে—এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যের সমালোচনা করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন।
তবে এই ঘটনার পর নীরব থাকেননি হুমায়ুন কবিরও। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, “আমার বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেছিলেন, মুসলমানদের নামাজ পড়তে হলে বাংলাদেশ অথবা পাকিস্তানে চলে যেতে হবে। সেই মন্তব্যের জন্য কি কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল?”
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, “আমি জেলে যেতে ভয় পাই না। আমি আমার বক্তব্য থেকে পিছিয়ে আসব না। আইন যদি ব্যবস্থা নেয়, আমি তার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই আবহে বিভিন্ন নেতার বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। বিরোধী ও শাসক—উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগ তুলছে।
উল্লেখ্য, হুমায়ুন কবির অতীতেও একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য খবরের শিরোনামে এসেছেন। বিভিন্ন সময় তাঁর বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় এবারও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, নাকি বিষয়টি রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে—সেটাই এখন দেখার।





