“যারা ভালো তৃণমূল, তাদের জন্য বিজেপির দরজা খোলা” — কয়েকদিন আগেই এমন মন্তব্য করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি Samik Bhattacharya।
আর ঠিক তার পরেই উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
মঙ্গলবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী Nisith Pramanik। প্রশাসনিকভাবে বৈঠকটির গুরুত্ব থাকলেও, রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে অন্য একটি বিষয় — ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন একাধিক তৃণমূল বিধায়ক।
উত্তর দিনাজপুর থেকে শুরু করে মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর— বিভিন্ন জেলার মোট ১১ জন তৃণমূল বিধায়ক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমান, ইসলামপুরের কানাইলাল আগারওয়াল, গোয়ালপোখরের গুলাম রব্বানি সহ একাধিক পরিচিত মুখ। সাংবাদিকদের ক্যামেরায় এদিন তাঁদের একেবারেই ভিন্ন মেজাজে দেখা যায়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “কেউ যদি খোলা মনে এলাকার উন্নয়নের জন্য আমাদের কাছে আসে, তাদের জন্য দরজা খোলা রয়েছে।”
এই মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে।
কারণ, কয়েকদিন আগেই সমিক ভট্টাচার্যের “ভালো তৃণমূলদের জন্য দরজা খোলা” মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। আর এবার উত্তরকন্যার বৈঠকে এত সংখ্যক তৃণমূল বিধায়কের উপস্থিতি সেই জল্পনাকে যেন আরও উস্কে দিল।
তাহলে কি সত্যিই তৃণমূলের কিছু বিধায়কের জন্য বিজেপির দরজা খুলে যাচ্ছে?
নাকি এটা শুধুই প্রশাসনিক সৌজন্য?
এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
আর তার থেকেও বড় প্রশ্ন উঠছে বিজেপির তৃণমূল স্তরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে।
কারণ, গত কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বহু বিজেপি কর্মী ও নেতা। রাজনৈতিক সংঘর্ষ, আন্দোলন, অভিযোগ— সবকিছুর মধ্য দিয়ে তাঁরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
সেই পরিস্থিতিতে যদি আগামী দিনে তৃণমূলের একাংশ বিজেপির কাছাকাছি আসে, তাহলে কি পুরনো কর্মীদের আবারও “পেছনের সারিতে” বসতে হবে?
রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু কেউ নয়— এই কথা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে।
কিন্তু মাটির স্তরে রাজনীতি করা কর্মীদের আবেগ, লড়াই আর ত্যাগ— সেই সমীকরণ কতটা বদলাবে, সেটাই এখন দেখার।
উত্তরকন্যার এই বৈঠক আপাতদৃষ্টিতে প্রশাসনিক হলেও, তার রাজনৈতিক বার্তা কতদূর যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।”





