বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফের বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস ভোটে হারেনি, বরং পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে।
মমতার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে সাহায্য করেছে। এমনকি ভবানীপুর কেন্দ্রেও তাঁকে জোর করে হারানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রবিবার ফলতা উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন তিনি বলেন,
“ভবানীপুরে কীভাবে জিতেছেন, সেটা আদালতেই বলব। সাহস থাকলে ইভিএমের ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ করুন।”
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, বর্তমানে ক্ষমতার জোরে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপর অত্যাচার চলছে। কাউন্সিলরদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, পার্টি অফিস দখল করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মমতা বলেন,
“চার তারিখে ভোটগণনা হয়েছে, আজ ২৪ তারিখ। এই ২০ দিন আমরা মুখ বুজে সব সহ্য করেছি। শুধু আমি নই, বাংলার সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের কর্মীরাও চাপের মধ্যে রয়েছেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কলকাতা পুরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার উন্নয়নমূলক কাজেও বাধা তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
শুভেন্দু প্রশাসনকে আক্রমণ করে মমতা বলেন,
“আমরা প্রশাসন চালিয়েছি, কিন্তু কখনও পুলিশকে এভাবে ব্যবহার করিনি। এখন সভা-মিছিল করতেও অনুমতি মিলছে না। প্রতিদিন আমাদের কাউন্সিলরদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।”
ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও বড় অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, এবারের নির্বাচন স্বচ্ছ হয়নি। ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং পরে পরিকল্পিতভাবে রিগিং করা হয়েছে।
মমতার অভিযোগ,
“আমাদের কাছে খবর আছে, নির্বাচন কমিশনের অফিস থেকেই ডেটা হ্যাকিং হয়েছে। বিজেপির লোকেরা সিআরপিএফের পোশাক পরে কাউন্টিং হলে ঢুকেছিল।”
তিনি আরও বলেন,
“যিনি এখন চেয়ারে বসে আছেন, তাঁর ওই চেয়ারে বসার কথা নয়। ভোট লুট করে ক্ষমতায় এসেছেন।”
ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে মমতা দাবি করেন, তিনি একসময় প্রায় ১৩ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন। পরে ফল ঘুরে যায়। তাঁর অভিযোগ, প্রায় দেড়শো আসনে ফলাফল উল্টে দেওয়া হয়েছে। তা না হলে তৃণমূল ২২০ থেকে ২৩০টি আসন পেত বলেও দাবি করেন তিনি।
শুভেন্দু সরকারের বিরুদ্ধে উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়েও আক্রমণ শানান মমতা। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের শুধু নাম বদলে নতুনভাবে চালানো হচ্ছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ডিএ এবং অন্যান্য সরকারি প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ভোট পরবর্তী বাংলার রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়াল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য।





