“গরু নয়, ছাগল কোরবানি করুন — মুসলিম সমাজকে আহ্বান নাখোদা মসজিদের ইমামের”

মুসলিম ধর্মালম্বীদের পবিত্র কোরবানিকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও বিতর্ক। পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা কি এবার গরু কোরবানি দিতে পারবেন? রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা ঘিরে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই কলকাতার নাখোদা মসজিদের ইমাম রাজ্য সরকারের নির্দেশিকাকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গরু কোরবানি এবং গরুর মাংস নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি না করে গরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দেওয়া হোক।

ইমাম আরও বলেন, “আমি মুসলিম সমাজকে পরামর্শ দেব, আপনারা গরু কোরবানি করবেন না এবং গরুর মাংসও খাবেন না। তার বদলে ছাগল বা পাঠা কোরবানি দিন। এতে ধর্মীয় বিধানও পালন হবে এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্কও এড়ানো যাবে।”

তিনি দাবি করেন, গরু কোরবানি বন্ধ হলে মুসলমানদের থেকে হিন্দুদেরই বেশি আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বহু হিন্দু পরিবার গরু পালন করেন এবং যখন সেই গরুগুলো দুধ দেওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে, তখন কোরবানির সময় সেগুলো বিক্রি করে ভালো দাম পান। মুসলমানরা যদি সেই গরু কেনা বন্ধ করে দেন, তাহলে সেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন গরু পালনকারীরাই। অন্যদিকে ছাগল ও পাঠা মুসলমানরাও পালন করেন, ফলে সেই ক্ষেত্রে মুসলিম সমাজের আর্থিক লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন Suvendu Adhikari। তাঁর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার সম্প্রতি গরু ও মোষ জবাই নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে।

সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, প্রকাশ্যে কোনওভাবেই গরু বা মোষ জবাই করা যাবে না। শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কসাইখানা বা প্রশাসন নির্ধারিত স্থানেই পশু জবাই করা যাবে।

১৩ মে প্রকাশিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, গরু, ষাঁড়, মোষ বা বাছুর জবাই করতে হলে আগে বিশেষ শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট নিতে হবে। এই সার্টিফিকেট দিতে পারবেন স্থানীয় পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশুচিকিৎসক।

কোন পরিস্থিতিতে অনুমতি মিলবে?

  • পশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি হলে এবং তা কাজ বা প্রজননের উপযুক্ত না থাকলে

অথবা

  •  বার্ধক্য, গুরুতর আঘাত, বিকৃতি বা দুরারোগ্য রোগের কারণে পশুটি স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে।

সরকার আরও স্পষ্ট করেছে, পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

নির্দেশিকা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।

রাজ্য সরকারের দাবি, পশু জবাই সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোরভাবে কার্যকর করাই এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য।

WhatsApp Join জয়েন করুন